1961 Kohen Kobi Kalidas aka Thus spoke Kavi Kalidasa

যে শহরে আমি ও ব্যোমকেশ হগুপ্তাখানেকের জন্য প্রবাসযাত্ৰা করিয়াছিলাম তাহাকে কয়লা-শহর বলিলে অন্যায় হইবে না। শহরকে কেন্দ্ব করিয়া তিন-চার মাইল দূরে দূরে গোটা চারেক কয়লার খনি। শহরটি যেন মাকড়সার মত জাল পাতিয়া মাঝখানে বসিয়া আছে‌, চারিদিক হইতে কয়লা আসিয়া রেলওয়ে স্টেশনে জমা হইতেছে এবং মালগাড়িতে চড়িয়া দিগবিদিকে যাত্ৰা করিতেছে। কর্মব্যস্ত সমৃদ্ধ শহর; ধনী ব্যবসায়ীরা এখানে

1961 Adrishyo Trikon aka The Invisible Triangle

গল্পটি শুনিয়াছিলাম পুলিস ইন্সপেক্টর রমণীমোহন সান্যালের মুখে। ব্যোমকেশ‌, এবং আমি পশ্চিমের একটি বড় শহরে গিয়াছিলাম গোপনীয় সরকারী কাজে‌, সেখানে রমণীবাবুর সহিত পরিচয় হইয়াছিল। সরকারী কাজে লাল ফিতার জট ছাড়াইতে বিলম্ব হইতেছিল‌, তাই আমরাও নিষ্কমার মত ডাকবাংলোতে বসিয়া ছিলাম। রমণীবাবু প্ৰায় প্রত্যহ সন্ধ্যার পর আমাদের আস্তানায় আসিতেন‌, গল্পসল্প হইত। তাঁহার চেহারাটাও ছিল রমণীমোহন গোছের‌, ভারি মিষ্ট

1961 Khunji Khunji Nari aka The Will that Vanished

রামেশ্বরবাবুর সঙ্গে ব্যোমকেশের পরিচয় প্রায় পনেরো বছরের। কিন্তু এই পনেরো বছরের মধ্যে তাঁহাকে পনেরো বার দেখিয়াছি কিনা সন্দেহ। শেষের পাঁচ-ছয় বছর একেবারেই দেখি নাই। কিন্তু তিনি যে আমাদের ভোলেন নাই তাহার প্রমাণ বছরে দুইবার পাইতাম। প্রতি বৎসর পয়লা বৈশাখ ও বিজয়ার দিন তিনি ব্যোমকেশকে নিয়মিত পত্ৰাঘাত করিতেন। রামেশ্বরবাবু বড়মানুষ ছিলেন। কলিকাতায় তাঁহার আট-দশখানা বাড়ি ছিল‌,

1961 Adwitiyo aka Unique

প্রকৃতির অলঙ্ঘনীয় বিধানে ব্যোমকেশের সহিত যখন সত্যবতীর দাম্পত্য কলহ বাধিয়া যাইত‌, তখন আমি নিরপেক্ষভাবে বসিয়া তাহা উপভোগ করিতাম। কিন্তু দাম্পত্য কলহে যখন স্ত্রীজাতি এবং পুরুষজাতির আপেক্ষিক উৎকর্ষের প্রসঙ্গ আসিয়া পড়িত তখন বাধ্য হইয়া আমাকে ব্যোমকেশের পক্ষ অবলম্বন করিতে হইত। তবু দুই বন্ধু একজোট হইয়াও সব সময় সত্যবতীর সহিত আটিয়া উঠিতাম না। বস্তুত মানুষের ইতিহাসে পুরুষজাতির

1963 Mognomoinak aka Silent on top of the hill

স্বাধীনতা লাভের পর পনেরো বছর অতীত হইয়াছে। সনাতন ভারতীয় আইন অনুসারে আমাদের স্বাধীনতা দেবী সাবালিকা হইয়াছেন‌, পলায়নী মনোবৃত্তি ত্যাগ করিয়া কঠিন সত্যের সম্মুখীন হওয়ার সময় উপস্থিত। সুতরাং এ কাহিনী বলা যাইতে পারে। নেংটি দত্ত নামধারী অকালপক্ক বালককে লইয়া কাহিনী আরম্ভ করিতেছি‌, কারণ সে না থাকিলে এই ব্যাপারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ঘটিত না। নেংটি একরকম জোর

1963 Dushtochokro aka The Crooked Circle

ডাক্তার সুরেশ রক্ষিত বলিলেন‌, ‘আপনাকে একবার যেতেই হবে‌, ব্যোমকেশবাবু। রোগীর যেরকম অবস্থা‌, আপনি গিয়ে আশ্বাস না দিলে বাঁচানো শক্ত হবে।’ ডাক্তার সুরেশ রক্ষিতের বয়স চল্লিশের আশেপাশে‌, একটু রোগা শুষ্ক গোছের চেহারা‌, দামী এবং নূতন বিলাতি পোশাক তাঁহার গায়ে যেন মানায় নাই। কিন্তু ভাবভঙ্গী বেশ চটপটে এবং বুদ্ধিমানের মত। আজ সকালে তিনি ব্যোমকেশের সঙ্গে দেখা করিতে

1964 Henyalir Chhondo aka The Rhythm of Riddles

ব্যোমকেশ সরকারী কাজে কটকে গিয়াছিল‌, আমিও সঙ্গে ছিলাম। দুচার দিন সেখানে কাটাইবার পর দেখা গেল‌, এ দু’চার দিনের কাজ নয়‌, সরকারী দপ্তরের পর্বতপ্রমাণ দলিল দস্তাবেজ ঘাঁটিয়া সত্য উদঘাটন করিতে সময় লাগিবে। তখন ব্যোমকেশ কটকে থাকিয়া গেল‌, আমি কলিকাতায় সুপ্রিয়া আসিলাম। বাড়িতে একজন পুরুষ না থাকিলে বাঙালী গৃহস্থের সংসার চলে কি করিয়া? কলিকাতায় আসিয়া চুপ করিয়া

1964 Room Nombor Dui aka Room Number 2

নিরুপমা হোটেলের ম্যানেজার হরিশচন্দ্র হোড় ঘুম ভেঙেই ঘড়ি দেখলেন–সাড়ে‌, ছটা। তিনি ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলেন। ইঃ‌, আজ বেজায় দেরি হয়ে গেছে। তিনি ডাকলেন‌, ‘গুণধর!’ তকমা-উর্দি পর সদর খানসামা গুণধর এসে দাঁড়াল। শীর্ণকান্তি অত্যন্ত কর্মকুশল চৌকশ লোক, হোটেলের প্রত্যেকটি খুঁটিনাটির প্রতি নজর আছে। হরিশচন্দ্র তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বেড-টি দেওয়া হয়েছে?’ গুণধর বলল‌, ‘আজ্ঞে। তেতলার সবাই

1965 Chholonar Chhondo aka Man in a Red Coat

টেলিফোন তুলে নিয়ে ব্যোমকেশ বলল–’হ্যালো? ইন্সপেক্টর রাখালবাবুর গলা শোনা গেল— ‘ব্যোমকেশদা‌, আমি রাখাল। নেতাজী হাসপাতাল থেকে কথা বলছি। একবার আসবেন?’ ‘কি ব্যাপার?’ ‘খুনের চেষ্টা। একটা লোককে কেউ গুলি করে মারবার চেষ্টা করেছিল‌, কিন্তু মারতে পারেনি। আহত লোকটাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। সে এক বিচিত্র গল্প বলছে।’ ‘তাই নাকি? আচ্ছা‌, আমি যাচ্ছি।’ কেয়াতলায় ব্যোমকেশের বাড়ি থেকে নেতাজী

1967 Shajarur Kanta aka The Quills of the Porcupine

www.000webhost.com